পঞ্চায়েতকে জানিয়েও হয়নি সমাধান, এলাকাবাসী নিজেরাই দুলক্ষ টাকা তুলে তৈরি করছে রাস্তা

2nd February 2022 8:42 pm জেলা
পঞ্চায়েতকে জানিয়েও হয়নি সমাধান, এলাকাবাসী নিজেরাই দুলক্ষ টাকা তুলে তৈরি করছে রাস্তা


গ্রামবাসীরা নিজেরাই দু-লক্ষ টাকার মাটি ফেলে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করলো

জৈদুল সেখ, বড়ঞা, মুর্শিদাবাদ 


দীর্ঘদিন ধরেই রাস্তার বেহাল অবস্থা, বর্ষা এলেই যাতায়াত প্রচন্ড সমস্যায় পড়তে হয় এলাকাবাসীদের। দীর্ঘ ২০ বছর ধরে এমনই সমস্যার মধ্যে জীবন যাপন করছে মুর্শিদাবাদের  
বড়ঞা ব্লকের অন্তর্গত খরজুনা অঞ্চলের বদুয়া গ্রামের দুই পাড়ার মানুষ। অগত্যা বদুয়া গ্রামের ৪৫টি পরিবার নিজেদের মধ্যে প্রায় দুই লক্ষ টাকা চাঁদা তুলে মঙ্গলবার থেকে মাটি দিয়ে রাস্তা মেরামত করতে শুরু করল। 
 
উল্লেখ্য বদুয়া গ্রামের দুটি রাস্তার সমস্যা দুটো রাস্তা তালবোনা পাড়া থেকে ঈদগাহ পাড়া আর একটা দীঘিপাড়া থেকে পদ্মপুকুর পর্যন্ত গ্রামের ভিতরে এই রাস্তা দুটি প্রায় এক কিলোমিটার কাছাকাছি। এই রাস্তা দুটির পাশে জল নিকাশী কোনো সুবিধা না থাকায় বর্ষার সমস্ত জল প্রায় সারা বছরই থেকে যায়। যার ফলে স্কুল, ফসল তোলা এবং যাতায়াতের ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হয় গ্রামবাসীদের। 


    তালবোনা গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল আলীম বলেন

" ২০ বছর ধরে রাস্তা খারাপ। জল কাদা জমে থাকে ছেলে মেয়েদের স্কুল যেতে অসুবিধা হয়, তাছাড়া গ্রামের ফসল তোলার ক্ষেত্রে খুব অসুবিধা হয়। বার বার প্রধান বলেও কাজ হয়নি। শুধু বলে হয়ে যাবে, হয়ে যাবে কিন্তু হয় না। তাই তালবোন এবং ঈদগাহ পাড়া মিলে প্রায় দু লক্ষ টাকা তুলে এই রাস্তা মেরামত করছি। "
    এবিষয়ে খরজুনা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রিপন সেখ বলেন " রাস্তা খারাপের বিষয়ে মেম্বার বলতে পারবে, আমি বলতে পারব না। কারণ এই সমস্ত সমস্যাগুলি মেম্বারের চোখ দিয়ে দেখি, সে নিশ্চয়ই আমাকে জানায়নি। "

 


    রাস্তার দীর্ঘদিনের সমস্যা গ্রামবাসীদের অভিযোগ স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধানকে বারবার বলা সত্ত্বেও রাস্তা হয়নি তাই গ্রামবাসীরা নিজেরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে টাকা তোলে দু লক্ষ টাকার মাটি ফেলে রাস্তা মেরামতের কাজ শুরু করে। গ্রামবাসীদের আরও জানান সবচেয়ে বড়ো সমস্যা বাচ্চারদের স্কুল যেতে অসুবিধা হচ্ছে মহিলারা পড়ে যাচ্ছে রাস্তার মধ্যে খুবই সমস্যা।

 


    তারপর এই সংসদের মেম্বার গোলাপ সেখের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন সমস্যা ছিল কিছুটা সমাধান হয়েছে যদিও গ্রামবাসীদের উদ্যোগে রাস্তা মেরামতের কথা স্বীকার করলেও দুই লক্ষ টাকার কাজের কথা অস্বীকার করেছেন।  
  তাছাড়া ঈদগাহ পাড়ার ক্ষেত্রে তিনি বলেন "ইতিমধ্যেই সাড়ে চার লক্ষ্য টাকার স্কীম ড্রেনের জন্য এবং ঢালাইয়ের জন্য আলাদা স্কিম দেওয়া আছে খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে "

যদিও গ্রামবাসী আব্দল আলিম সেখ, আজমাইল সেখ কালু শেখ আহমেদ শেখ বাবুল শেখ সাহাদত সেখ নব শেখ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন অনেকেই। 





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।