দেহ ব্যবসা এবং ঘুষ না দিলে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! প্রতিবাদে বহরমপুর হাসপাতালে

11th January 2022 4:57 pm জেলা
দেহ ব্যবসা এবং ঘুষ না দিলে চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ! প্রতিবাদে বহরমপুর হাসপাতালে


কুরুচিকর প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার হুমকি! প্রতিবাদে অনশনে কর্মবন্ধুরা

জৈদুল সেখ, বহরমপুর, মুর্শিদাবাদ

দেহব্যবসা না করলে কিংবা কু-প্রস্তাবে রাজি না হলে এবং ঘুষ না দিলে বেতন বন্ধ করে দেওয়ার মারাত্মক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অস্থায়ী চুক্তিভিত্তিক বেশ কিছু মহিলা কর্মবন্ধু। অভিযোগ উঠেছে একটি বেসরকারি কোম্পানির বিরুদ্ধে। এরই প্রতিবাদে সোমবার থেকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে অনশন কর্মসূচি পালন করলেন ৩০-৪০ জন কর্মবন্ধু। তাদের অভিযোগ বেআইনিভাবে কাজ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে এ নিয়ে অনশন শুরু করেন তারা।
       প্রসঙ্গত ওই কোম্পানি মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে বেশকিছু অস্থায়ী সাফাই কর্মী সরবরাহ করার জন্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সাথে চুক্তিবদ্ধ। অস্থায়ী কর্মী রাজ্যে বেতন পান সেই তা থেকে নিয়োগকর্তাদের বেশ কিছু টাকা ঘুষ না দিলে নিয়মিত তারা বেতন পাওয়া যায় না। অস্থায়ী এক সাফাই কর্মী জানিয়েছেন তাদের প্রতি মাসে মাইনে ৭৪৮৮ টাকা। কিন্তু যে কোম্পানির হয়ে তারা কাজ করেন সেই কোম্পানির মালিক এবং সুপারভাইসারকে মাসে
২৫০- ৫০০ টাকা দিতে হয় না হলে তাদের বেতন বন্ধ হয়ে যায়।
      বেসরকারি সংস্থা নিয়োজিত এই কর্মবন্ধু কর্মীরা। নিয়োজিত সংস্থার সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে কর্মবন্ধু কর্মীদের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ, বিভিন্ন অছিলায় তাঁদের দেহ ব্যবসায় নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে! অনশনকারী এক কর্মবন্ধু সুপর্ণা সাহার অভিযোগ "এখানে মেয়েদের সঙ্গে নোংরামি করা হচ্ছে। এ জন্য আমরা সব জায়গায় গিয়েছি। কিন্তু আমরা কোনও সুফল পাইনি। ভদ্র বাড়ির মেয়ে হয়েও রাস্তায় বসতে বাধ্য হয়েছি "
  এছাড়াও তার অভিযোগ  মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার দুই কর্মী অভিজিৎ ঘোষ ওরফে পুঁটি এবং শুক্লা মল্লিক তাদের বিভিন্ন ভাবে দেহ ব্যবসায় নামানোর চেষ্টা করেছেন। তারা তা না মানলে, বরখাস্ত করা হয় বলে অভিযোগ। সুপর্ণা দেবীর কথায় "আমি পাঁচমাস ধরে বসে আছি। এই বিষয়ে লেবার কমিশনের অফিসে জানিয়েছি। নেতা মন্ত্রীদের কাছেও গিয়েছি। কোনও সুরাহা হয়নি।" তিনি আরও বলেন“তারা আমাকে ছুটির দিনে ডেকে পাঠিয়েছে! আমার কাছে ফোনে রেকর্ডিং আছে। ”
       উল্লেখ্য এই অভিযুক্ত সংস্থার অধীনে মোট ৩৭৭ জন কর্মবন্ধু কাজ করেন। তার মধ্য়ে প্রায় ৪৫ জন কর্মবন্ধুকে বেআইনিভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ অনশনকারীদের। অনশনকারীদের একজন আল্পনা খাতুন বলেন“আমার সন্তান হওয়ায়, ছুটিতে ছিলাম। ১ নভেম্বর আমি কাজে আসি আবার। কিন্তু তখন আমাক ২ লক্ষ টাকা দিতে বলা হয়! দিতে না পারলে শুক্লা ঘোষ কুরুচিকর প্রস্তাব করেন।”
    এখানেই শেষ হচ্ছে না অভিযোগের তালিকা। ওই বেসরকারি সংস্থার কর্মীদের বিরুদ্ধে আর্থিক তছরুপের অভিযোগও উঠেছে। এক অনশনকারী জানিয়েছেন, মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার দুই কর্মী অভিজিৎ ঘোষ ওরফে পুঁটি, শুক্লা মল্লিক পুরুষ কর্মীদের থেকে টাকাও চাইতেন। যাঁদের ১০,০০০ টাকা বেতন তাদের থেকে ৫০০ টাকা এবং যারা মাসিক বেতন হিসেবে ৭,০০০ টাকা পান তাঁদের থেকে ২৫০ টাকা করে নেওয়া হত। এই রকম একাধিক অভিযোগ নিয়ে এদিন তাঁরা মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অনশন কর্মসূচি করেন। পরে সন্ধ্যে ৭টায় বহরমপুর থানার পুলিশের আশ্বাসে কর্মসূচি তুলে নেন অনশনকারীরা। এদিকে অভিযুক্ত কর্মী অথবা ওই সংস্থার তরফে এ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।