অভিনব উদ্যোগে কম্বল দিয়ে অসহায় ভবঘুরেদের পাশে লালগোলার রক্তযোদ্ধা

9th January 2022 10:25 pm জেলা
অভিনব উদ্যোগে কম্বল দিয়ে অসহায় ভবঘুরেদের পাশে লালগোলার রক্তযোদ্ধা


অভিনব উদ্যোগে কম্বল দিয়ে অসহায় ভবঘুরেদের পাশে লালগোলার রক্তযোদ্ধা

জৈদুল সেখ, মুর্শিদাবাদ 

লালগোলায় যে কোনো মানুষের রক্তের সমস্যা হলে দীর্ঘদিন ধরেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়ে রক্তযোদ্ধা নামে পরিচিত হয়ে উঠেছেন। লালগোলা রক্তযোদ্ধারা কনকনে শীতের রাত্রে যখন সবাই লেপমুড়ি দিয়ে গরম ধরাতে ব্যস্ত ঠিক তখনই এই সংগঠনের সদস্যরা শীতের রাতে বিভিন্ন এলাকার বাসস্ট্যান্ড, প্লাটফর্ম, ফুটপাত রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ভবঘুরে থেকে শুরু করে অসহায় গরীব মানুষদের মধ্যে শীতবস্ত্র তুলে দিচ্ছেন।


            সংগঠনের সদস্য সাহিল হোসেন (সুমন) বলেন " কেবলমাত্র মাত্র লালগোলা তেই নয় মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রান্ত এই কর্মসূচিতে ৫০০ জন মানুষকে কম্বল দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।" পাশাপাশি শীতকে উপেক্ষা করে তারা রোগীদের রক্তদানের কাজ চালিয়ে যাবেন বলেও জানা গেছে।  মূলত রক্ত দানের ফলে মানুষের মানুষের যে বন্ধন গড়ে তুলেছেন রক্তধারা সেই সূত্র ধরেই তাদের সংগ্রহে আছে ওই শীতবস্ত্র। তারা শুধু ঘুরে ঘুরে অসহায় মানুষগুলো হাতে তুলে দেন বস্ত্র। সংস্থার কর্ণধার রবিউল ইসলাম বলেন এর আগে বিভিন্ন উৎসবে দুঃস্থ দরিদ্র অসহায়দের হাতে তুলে দিয়েছেন নতুন জামাকাপড় এবার ভবঘুরে পরিচয়হীন মানুষগুলোকে শীত থেকে রক্ষা করতে এই উদ্যোগ নিয়েছি বলে জানিয়েছেন। 
    করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউয়ে সবাই যখন নিজের নিজের নিয়ে ব্যস্ত শুরু করেছেন ঠিক তখনই লালগোলার এই রক্তযোদ্ধাদের অভিনব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন একাকার মানুষ। 
    লালগোলা রক্তযোদ্ধা গ্রুপের রবিউল ইসলাম বলেন অসহায় মানুষের কথা ভেবে এই উদ্যোগ আমাদের সংস্থার সদস্য সাহিল হোসেন সুমন, মোহাম্মদ আরিফ, মামুন শেখ, জিদান, পাঁচজন মিলে লালগোলার বিভিন্ন প্রান্তে এই বছরের কম্বল তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে অসহায় মানুষকে শীতবস্ত্র বিতরণ ছাড়াও লালগোলার রক্তযোদ্ধারা দীর্ঘদিন থেকে অসহায় মূর্মুর রোগীর রক্ত জোগাড় করে দেওয়ার জন্য মানুষের কাছে পরিচিত মুর্শিদাবাদ জেলা লালগোলা রক্তযোদ্ধা স্বেচ্ছায় রক্তদান আন্দোলনের অন্যতম সংগঠন হয়ে উঠেছে সেই কাজ চলবেই বলে জানিয়েছেন। 





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।