আনা হল না মেয়ের জন্মদিনের গিফট, শহিদ হয়ে মুর্শিদাবাদের গ্রামে ফিরছেন শ্যামল

14th November 2021 5:42 pm দেশ
আনা হল না মেয়ের জন্মদিনের গিফট, শহিদ হয়ে মুর্শিদাবাদের গ্রামে ফিরছেন শ্যামল


মনিপুরে জঙ্গি হানায় শহীদ হলেন খড়গ্রামের বীর জোয়ান শ্যামল


জৈদুল সেখ, খড়গ্রাম 

বাড়িতে আট বছরের মেয়েকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে স্ত্রীর সুপর্ণা দাস কে শেষ ফোন করেছিল শ্যামল দাস। বলেছিল মেয়ের জন্মদিনের গিফট নিয়ে খুব কিছুদিনের মধ্যেই বাড়ি ফিরবেন। কিন্তু 
শনিবার সকালে মণিপুরের জঙ্গি হানায় নিহত  বাংলার শ্যামল দাস। 
       মুর্শিদাবাদের কান্দি মহকুমার খড়গ্রাম ব্লকের কীর্তিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নগর গ্রামের বাসিন্দা শ্যামল দাস ছিলেন অসম রাইফেলসেরই কর্মী। মণিপুরের চূড়াচাঁদপুরে জঙ্গি হামলার সময় শ্যামল ছিলেন কমান্ডিং অফিসার বিপ্লব ত্রিপাঠীর গাড়িতে। বিপ্লব জঙ্গিদের গুলিতে নিহত হন। পরে গাড়িতে থাকা বিপ্লবের স্ত্রী এবং সন্তানকেও গুলি করে খুন করে জঙ্গিরা। শ্যামল ছিলেন ওই গাড়ির চালকের আসনে। জঙ্গিরা তাকেও গুলি করে মারে। শনিবার রাতে কীর্তিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নগরে শ্যামল দাসের বাড়িতে খবর পৌছতেই গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।


      রবিবার কীর্তিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নগর গ্রামে শ্যামল দাসের বাড়িতে দেখা যায় চারিদিকে শুধু কান্নার আওয়াজ। স্বামীর দু'দিন আগেকার ফোনের বার্তালাপ বারবার মনে পড়ছে শহিদের স্ত্রী সূপর্ণা দাসের। তিনি জানিয়েছেন, দু'দিন আগেই একমাত্র মেয়ে দিয়া দাসের জন্মদিন ছিল। মেয়েকে হ্যাপি বার্থডে জানিয়ে শেষ ফোন করেছিল ওর বাবা। জানিয়েছিলেন,  খুব শিগগির হ্যাপি বার্থ ডের গিফট নিয়ে ফিরবেন গ্রামে। কিন্তু শনিবার রাতে জঙ্গি হানায় শ্যামলের মৃত্যুর খবর আসে গ্রামে হতবাক স্ত্রী সহ পরিবার। 
      শ্যামল দাসের বাবা ধীরেন দাস জানিয়েছেন, আমরা খুবই দুস্থ পরিবারের। আমার দুই ছেলে। ছোট ছেলে কিছুদিন আগেই মারা গেছে। বড় ছেলে দেশরক্ষায় আসাম রাইফেলে কর্মরত ছিল মণিপুরে। ২০০৯ সালের নভেম্বর মাসে বড় ছেলে শ্যামল যোগদান করে অসম রাইফেলসে দীর্ঘ ১১ বছর রয়েছেন সেনাবাহিনীতে। ছেলের মূল লক্ষ্য ছিল বড় হওয়া। জঙ্গিদের সাথে বহুবার মুকাবিলা হয়েছে, যখনই ছেলে এসেছে বাড়ি, তখনি শুনিয়েছেন  সেইসব কথা। কিন্তু এবার ওই জঙ্গিদের হাতে সব শেষ হয়ে গেল। তবে বৃদ্ধ বাবা বলছেন,  "ছেলের এই মৃত্যুতে আমি শোকাহত নয়। কারণ আমি মনে করি আমার ছেলে শহীদ হয়েছেন। আর শহিদের প্রান সকলের ঊর্ধ্বে। জঙ্গিরা কাপুরুষ। সরকারের কাছে অনুরোধ যেন ওদের খুঁজে বের করে ফাঁসিতে ঝোলানো হয়।"  
গতকাল সন্ধের পর থেকেই থমথমে মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামে শ্যামল দাসের গ্রাম। এদিন সকালে স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়েছিল। সূপর্ণাকে বলেছিলেন কাজ থেকে ফিরে ফোন করবেন। সেই সুযোগ আর আসেনি। স্বামীর মৃত্যু সংবাদ শুনে একেবারে নিশ্চুপ হয়ে গিয়েছেন সূপর্ণা। 
    এদিন সকাল থেকেই মণিপুরের জঙ্গি হামলায় নিহত শ্যামল দাসের বাড়িতে  সমবেদনা জানাতে কাতারে কাতারে গ্রামবাসী ভিড় জমিয়েছিলেন। সকলকে  শহিদ শ্যামল দাসের মা বলেন - ছেলের রেখে যাওয়া স্মৃতির কথা। তিনি জানিয়েছেন, পুজোর আগেই ছেলে বাড়ি ফিরে ছিল। কিন্তু দুর্গাপুজোর পঞ্চমীর দিন কর্মস্থলে ফিরে যান। তখন বলে গেছিলেন, অঘ্রান মাসে জমির নতুন ধানের নবান্ন উৎসবে অবশ্যই ফিরবেন। কিন্তু তার আগেই ছেলের শহিদের খবর মেলে। শ্যামল দাসের অকাল মৃত্যুর খবর পৌঁছাতে এলাকা তথা মুর্শিদাবাদ জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিবারকে সমবেদনা জানাতে উপস্থিত হয়েছেন সমাজসেবী থেকে বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যাক্তিবর্গ। 





Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।