উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম রুমানা সুলতানা চমকে দিলেন সর্বভারতীয় মেডিক্যালেও, প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.৫ শতাংশ

4th November 2021 6:13 pm রাজ্য
উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম রুমানা সুলতানা চমকে দিলেন সর্বভারতীয় মেডিক্যালেও, প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.৫ শতাংশ


 উচ্চমাধ্যমিকে প্রথম রুমানা সুলতানা চমকে দিলেন সর্বভারতীয় মেডিক্যালেও, প্রাপ্ত নম্বর ৯৯.৫ শতাংশ
 

জৈদুল সেখ, কান্দি 

উচ্চমাধ্যমিকের রেজাল্টে সবাইকে চমকে দিয়েছিলেন মুর্শিদাবাদের কান্দির রুমানা সুলতানা। নিট (NEET) অর্থাৎ ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এনট্রান্স টেস্টেও সাফল্যের সঙ্গে উত্তীর্ণ হলেন রুমানা। তাঁর ব়্যাংক হয়েছে ১,০৫৭। প্রাপ্ত নম্বরের শতাংশ ৯৯.৫। তাঁর সাফল্যে উচ্ছ্বসিত পরিবার তথা কান্দিবাসী।
              প্রসঙ্গত রুমানা সুলতানা উচ্চমাধ্যমিকে প্রথমে হওয়ার পর নিন্দুকেরা সোশ্যাল মিডিয়ায় অপ্রাস‌ঙ্গিক মন্তব্য করে জলঘোলা করে পরীক্ষা না দিয়ে প্রথম হওয়াকে ব্যাঙ্গ করেছিল। তাদের সঠিক জবাব রুমানার জাতীয় স্তরের NEET পরীক্ষায় ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি ও বায়োলজি তিনটে বিষয়েই ৯৯.৫% প্রাপ্ত নম্বর। তাছাড়া রুমানাকে কেন্দ্র করে সংসদ সভাপতি বিতর্কে জড়ালেও সুলতানাকে এবিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে দেখা যায়নি। কারণ তাঁর ধ্যান ছিল শুধুমাত্র পড়াশোনা। রুমানা সুলতানা লক্ষ্য ছিল ডাক্তার হওয়া। সেই দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন রুমানা। উচ্চমাধ্যমিকের পর রুমানা সুলতানার নিট পরীক্ষাতেও প্রশংসনীয় ফলাফলে উচ্ছ্বসিত কান্দি তথা মুর্শিদাবাদবাসী। রুমানা সুলতানার পিতা রবিউল আলম জানান " গত এক সপ্তাহ আগে রুমানা মুম্বই ইউনিভার্সিটিতে অটোমিক এন্যার্জি বিভাগে ভর্তি হয়েছে। তবে সুযোগ পেলে এইমসে পড়তে চায় রুমানা সুলতানা।" 


      উল্লেখ্য ২০২১ সালে অতিমারী করোনা আবহে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা হয়নি। মাধ্যমিক এবং একাদশ শ্রেণির নম্বরের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। উচ্চমাধ্যমিকে রুমানা পেয়েছিল পাঁচশোর মধ্যে ৪৯৯। তাঁর রেজাল্ট ঘোষণা করতে গিয়ে সংসদ সভাপতি বলেছিলেন, ”প্রথম হয়েছে রুমানা, প্রাপ্ত নম্বর ৪৯৯, এক মুসলিম কন্যা।” এই বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে পরবর্তীতে সংসদ সভাপতির পদ থেকে মহুয়া দাসকে সরতে হয়েছিল ।
          মুর্শিদাবাদের কান্দি পুরএলাকার এগারো নম্বর ওয়ার্ডের হোটেল পাড়া বাসিন্দা রুমানা সুলতানা কান্দি মণীন্দ্রচন্দ্র গার্লস স্কুলের ছাত্রী। শিক্ষক পরিবারের সন্তান রুমানা। বাবা রবিউল আলম ভরতপুর থানার অচলা বিদ্যামন্দিরের প্রধান শিক্ষক। মা সুলতানা পারভীন ভরতপুরের গয়সাবাদ অচলা বিদ্যামন্দিরে শিক্ষিকা। ফলে ছোটবেলা থেকে জ্ঞানার্জনে আগ্রহের একটা পরিবেশ ছিলই। রুমানা নিজেও পড়াশোনা করেছে ভালবেসে, স্রেফ পরীক্ষায় ভাল ফল করার প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব নিয়ে নয়। আর তার ফল পেয়েছে বারবার। ২০১৯ সালে মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৬৮৬ নম্বর পেয়ে রাজ্যের মধ্যে পঞ্চম স্থান দখল করেছিল রুমানা। বিজ্ঞান বিভাগে ভরতি হওয়া ছাত্রীর লক্ষ্য ছিল, উচ্চ মাধ্যমিকে আরও ভাল ফল করার। লক্ষ্য পূরণ হয়েছে রুমানা সুলতানার।
              





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।