দূষণমুক্ত পৃথিবী" বার্তা নিয়ে সাইকেলে তেপান্তের পথে মুর্শিদাবাদের জোজো লাদাখে

11th October 2021 6:24 pm রাজ্য
দূষণমুক্ত পৃথিবী


"দূষণমুক্ত পৃথিবী" বার্তা নিয়ে সাইকেলে তেপান্তের পথে মুর্শিদাবাদের জোজো লাদাখে 

জৈদুল সেখ, লালগোলা

'দূষণ মুক্ত পৃথিবী' গড়ে তোলার ডাক দিয়ে সাইকেল  চেপেই এক মাস আগেই ভারত ভ্রমনে পাড়ি দিয়েছিল মুর্শিদাবাদ সীমান্তের লালগোলার সদ্য কলেজ উত্তীর্ণ পড়ুয়া জোজো কুমার ওরফে প্রসেনজিৎ দাস। খুব ছোট বেলা থেকেই সাইকেল নিয়ে স্বপ্ন বুনত প্রসেনজিৎ দাস, যাকে এলাকার মানুষ জোজো কুমার অর্থাৎ ‘সাইকেলম্যান’ হিসেবেই বেশি চেনেন।
       সাইকেল নিয়ে ঘোরাফেরা করাই নেশা। তবে এখনও সে অর্থে কোনও পেশা বেছে নেননি। যদিও সাইকেলে সওয়ার হয়ে আগেও বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন স্থানে বেশ কয়েকটি অভিযানে গিয়েছেন বাইশ বছরের জোজো। তাতে চেপেই এবার লক্ষ্য ছিল লাদাখ। মুর্শিদাবাদের লালগোলা থেকে সাইকেলে চেপে সেই লাদাখেই পৌঁছে গিয়েছেন জোজো কুমার।
       উল্লেখ্য  ২৩ অগষ্ট সকালে লালগোলা থেকে সাইকেলে চেপে রওনা দিয়েছিলেন জোজো। ২৮ সেপ্টেম্বর পৌঁছে যান লেহ্‌ জেলার খারদুং লা-য়। এই মুহূর্তে লাদাখে রয়েছেন। লাদাখ-অভিযানে একা বেরলেও পথে শিলিগুড়ির দু’জন বাসিন্দাকে সঙ্গী হিসেবে পেয়ে গিয়েছেন জোজো। লালগোলা থেকে প্রায় তিন হাজার কিলোমিটার পথ পেরিয়েছেন। প্রবল ঠান্ডা বা দুর্গম পথ কোনও কিছুই জোজোর সংকল্পে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি বলে জানিয়েছেন। 
     'তেপান্তরের পথে' নাম দিয়ে জোজো এবার 'ভারত ভ্রমনে'। জানা গিয়েছে, জঙ্গিপুর হয়ে মুরারই তারপর ঝাড়খন্ড হয়ে বিহার, উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড পাড়ি দিয়ে বর্তমানে জোজ লাদাখে। এর পরেও কাশ্মীর,পঞ্জাব, হরিয়ানা হয়ে গোট দেশ ঘুরবে বলে রোগা পাতলা চেহারার যুবক জোজো সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন। 
        জোজোর এই অভিযানের আরও লক্ষ্য রয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার বার্তা দেওয়া, জলের অপচয় বন্ধ করা বা বৃক্ষরোপণের বিষয়ে সচেতন করতেই আমার লাদাখ-অভিযান।’’ খারদুং লা পৌঁছনোর অনুভূতিতে এখনও আচ্ছন্ন জোজো। তাঁর কথায়, ‘‘সমতল থেকে ১৫ হাজার ৩০০ ফুট উপরে পৌঁছেছি। এ এক বিস্ময়কর অনুভূতি!’’

 

বাবা বিশ্বজিৎ দাসের ছোট্ট মুদির দোকান। বাবাকে ব্যাবসার কাজে  সাহায্য না করেই সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে পড়া ছিল শখ। কখনও জিয়াগঞ্জ, তো কখনও ফরাক্কা অথবা মালদা কিংবা ৩৪ নম্বর সড়ক ধরে দুই প্যাডেলে ভর করে পৌঁছে যেত ডালখোলা। সীমান্ত ঘেঁষা লালগোলা থেকে প্লাস্টিক বর্জনের ডাক দিয়ে জোজো অনায়াসে সাইকেল নিয়ে পৌঁছিয়ে গিয়েছিল দার্জিলিংয়েও। 

 

'
কিন্তু তেপান্তরের পথে নাম কেন জানতে চাওয়া হলে শীর্ণকায় ছেলেটি বলে, “তেপান্তর একটি কল্পনার মাঠ। কিন্তু ওই মাঠ আমার কাছে নির্মল, যেখানে দূষণমুক্ত বাতাস আছে,আছে পেঁজা তুলোর মতো সুন্দর আকাশ আর পরিশ্রুত জল। সেই কল্পনার তেপান্তরকে সামনে রেখে বাস্তবের পরিচ্ছন ভারতবর্ষ গড়ে তোলার ডাক দিতেই আমার এই সাইকেল যাত্রা। তাই যাত্রা পথে মানুষকে নির্মল ভারত গড়ে তোলার জন্য সচেতন করে তুলব এবং এটাই আমার লক্ষ্য।” 

এক বছরের বেশি সময় ধরে অজানা পথে সাইকেল নিয়ে ছুটবে ছেলে, তাই প্রথম দিকে মানতে পারেননি জোজোর মা নীলিমা দাস । কিন্তু ছেলের অদম্য শক্তির কাছে হার মেনেছেন তিনিও। তবে বাবা বিশ্বজিৎ দাস ছেলেকে উৎসাহ জুগিয়েছেন প্রথম দিন থেকেই। আশির দশকে হেঁটে ভারত ভ্রমণ করেছিলেন লালাগোলার আরেক সন্তান তীর্থ কুমার ফণী, সাইকেলে দেশ ঘুরেছেন রামপদ মন্ডল। এঁদেরই যোগ্য উত্তরসূরি নাট্যপ্রেমী জোজো কুমার। এখন এই কলেজ উত্তীর্ণ যুবকই চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে মুর্শিদাবাদ জুড়ে ।





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।