হেরোইন নেশা এতটাই তীব্র ব্যাকুলতা, হেরোইন কেনার জন্য সামান্য টাকা পেতে খুন

26th June 2021 10:59 pm রাজ্য
হেরোইন নেশা এতটাই তীব্র ব্যাকুলতা, হেরোইন কেনার জন্য সামান্য টাকা পেতে খুন


হেরোইন নেশা এতটাই তীব্র ব্যাকুলতা, হেরোইন কেনার জন্য সামান্য টাকা পেতে খুন

  • আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবসে ফিরে দেখা
  • বাস্তব ঘটনা অবলম্বনে লিখছেন বিশিষ্ট পুলিশ অফিসার
অরূপ কুমার রায়

 

তারিখটা ঠিক মনে নেই কিন্তু সালটা ২০০৬, আমি তখন বহরমপুর থানায় কর্মরত। একদিন ডিউটি করতে করতে ভোরবেলায় খবর পেলাম চুয়াপুর মোড়ে কেউ একজন খুন হয়ে গেছেন। সাথে সাথে সেখানে দৌড়াই। দেখি খবরটা সত্য, এক ব্যক্তি মৃত অবস্থায় এক দোকানের বন্ধ সাটারের দরজার সামনে পড়ে। গলায় ছুরি দিয়ে কোপানোর দাগ,  রক্ত বেরিয়ে সিমেন্টের চাতালে অনেক টা গড়িয়ে থকথকে  জমে আছে। মৃতদেহে সদ্য খুনের ছাপ স্পষ্ট। সেই খুনের তদন্তে যেটুকু বেরিয়ে এসেছিল, যে মৃত ব্যক্তির এক নিকট আত্মীয়  সেদিন  বহরমপুর মেডিকেল কলেজে ভর্তি ছিলেন । তখন অবশ্য বহরমপুর হাসপাতাল মেডিকেল কলেজ হয়নি। সেই ভর্তি থাকা আত্মিয়ের জন্য রক্ত সংগ্রহ করতে  পকেট এ ৪০০/৫০০ টাকা নিয়ে বেরিয়েছিলেন রক্তদাতার খোঁজে। গন্তব্য ছিল ভাকুড়ি। চুয়াপুর মোড়ে এক হেরোইন আসক্ত ব্যক্তির সম্মুখীন হন  তিনি। সেই আসক্ত ব্যক্তির হেরোইন এর জন্য এতটাই তীব্র ব্যাকুলতা, হেরোইন কেনার জন্য,ওই সামান্য টাকা পেতে মরিয়া হয়ে সে ওই ব্যক্তিকে খুন করেন। এটা কোন গল্প নয়, এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়।মাদকাসক্ত ছেলের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে পিতা থানায় আশ্রয় নিয়েছে বাঁচার আর্তি নিয়ে, এ আমি স্বচক্ষে দেখেছি।নেশাখোর স্বামীর ঘরের সব জিনিস একে একে বিক্রি করে দিয়ে শেষকালে ছাউনির টিন ও বিক্রি করে দিয়েছে, এই অভিযোগ অসহায় স্ত্রী কে করতে দেখেছি। মাদকাসক্ত মানুষের কারণে শুধু বাড়ির লোকেরাই পীড়িত নয়। প্রতিবেশী, সমাজ সবাই ভুক্তভোগী। মুর্শিদাবাদের মত সীমান্তবর্তী জেলায় পুলিশ ও বি এস এফ নিয়মিত নজরদারি সত্ত্বেও হেরোইন ও ফেনসিডিল কারবারিরা অত্যন্ত সক্রিয়।

 

যুব সমাজের একটা অংশ অন্যান্য মাদকের পাশাপাশি এই দুই সাইকোট্রপিক ড্রাগে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা এত ভয়ঙ্কর এই কারণে এতে একবার আসক্তি হলে তার থেকে সহজে মুক্তি নেই। দ্বিতীয়তঃ এর বিশেষত্ব এইযে,এতে আসক্ত ব্যক্তির নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ডোজএর মাদক না পেলে তার মধ্যে যে সাইকো বায়োলজিক্যাল প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় তাতে সে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে যায় এবং সেই ব্যক্তি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেন না। সেসময় মাদকের জন্য খুন করা তার কাছে তুচ্ছ কাজ।ধারাবাহিক ভাবে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে না থাকলে হেরোইন আসক্ত কে সমাজের মূলপথে ফিরিয়ে নিয়ে আসা খুব কঠিন । আমাদের এই জেলাতে ড্রাগ রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের অভাবও প্রকট। বিভিন্ন সমস্যা, দারিদ্র্য, অশিক্ষা, মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকা আমাদের যুব সমাজের একটা বড় অংশকে মাদকের হাতছানি থেকে দূরে রাখতে সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয়তা অত্যন্ত জরুরী।  "বিশ্ব মাদক ও মাদক পাচার বিরোধী দিবস"এর দিন ,নিজ নিজ এলাকায় মাদক বিক্রেতা ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে আপোষহীন প্রতিরোধ গড়ে তোলার ভাবনাই হোক আজকের অঙ্গীকার।





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।