মুম্বাইয়ের খুনের ঘটনায় মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থেকে গ্রেফতার পরিযায়ী শ্রমিক

18th June 2021 11:38 pm দেশ
মুম্বাইয়ের খুনের ঘটনায় মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থেকে গ্রেফতার পরিযায়ী শ্রমিক


মুম্বাইয়ের খুনের ঘটনায় মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থেকে গ্রেফতার পরিযায়ী শ্রমিক

চেতনা ♈ কান্দি 

 

মহারাষ্ট্রের মুম্বাই এলাকায় একটি খুনের ঘটনায় মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থেকে গ্রেফতার করা হলো এক পরিযায়ী শ্রমিক কে। বৃহস্পতিবার রাতে মহারাষ্ট্রের মুম্বাই থেকে আসা একটি পুলিশের দল মুর্শিদাবাদের ভরতপুর থানার আলুগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের আঙ্গারপুর গ্রামের বাসিন্দা সাহেব শেখ নামে এক পরিযায়ী শ্রমিক কে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার ভরতপুর থানার পুলিশ ধৃত সাহেব শেখ কে কান্দি মহকুমা আদালতে হাজির করে ট্রানজিট রিমাইন্ডার আবেদন জানালে বিচারক তা মঞ্জুর করেন। আগামী 22 জুন মহারাষ্ট্রের দাদর এসিজেএম আদালতে ধৃতকে হাজির করা হবে ।কান্দি মহকুমা আদালতের আইনজীবী বিকাশ নারায়ন দে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার রাতে মহারাষ্ট্রের এন এন যোশি থানার একটি পুলিশের দল 302 ধারায় অভিযুক্ত সাহেব শেখ কে ধরার জন্য ভরতপুর থানা এলাকায় আসে এবং ভরতপুর থানার সহযোগিতায় আঙ্গারপুর গ্রাম থেকে সাহেব শেখ কে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে এই সাহেব শেখ পরিযায়ী শ্রমিক কাজ করতেন মুম্বাইয়ের দাদর এলাকার সাহো এন্ড নাহো বিল্ডিং কোম্পানিতে ।অভিযোগ কিছুদিন আগেই বাড়ি ফেরার জন্য ফিরোজ শেখ এই বিল্ডিং কোম্পানির ঠিকাদার শাহ আলম ওরফে মনিরুউদ্দিন শেখ কে বকেয়া টাকা পরিশোধ করে দেবার কথা বললে মনিরূ উদ্দিন শেখ তাতে রাজি না হওয়ায় ফিরোজ শেখ মনিরুদ্দিন কে বিল্ডিং এর লোহার খাঁচার উপর থেকে নিচে ঠেলে ফেলে দেন ।কিছুদিন পর মনিরুদ্দিন মারা যায়। পরবর্তী সময়ে দাদার এলাকার এন এম যোশি থানায় মনিরুদ্দীনের বাড়ির লোক খুনের অভিযোগ দায়ের করে ।তার পরিপ্রেক্ষিতেই মুম্বাই পুলিশ দল ভরতপুর থানায় এসে পরিযায়ী শ্রমিক সাহেব শেখ কে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় ট্রানজিট রিমাইন্ডার নিয়ে। যদিও বিষয়টি নিয়ে মুম্বাই পুলিশের আধিকারিকরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।





Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।