অক্সিজেন প্লান্ট নিয়ে অধীর চৌধুরীর বিভ্রান্ত ছড়ানোর অভিযোগ তুললেন অপূর্ব সরকার।

2nd June 2021 9:46 pm জেলা
অক্সিজেন প্লান্ট নিয়ে অধীর চৌধুরীর বিভ্রান্ত ছড়ানোর অভিযোগ তুললেন অপূর্ব সরকার।


অক্সিজেন প্লান্ট নিয়ে অধীর চৌধুরীর বিভ্রান্ত ছড়ানোর অভিযোগ তুললেন অপূর্ব সরকার।

জৈদুল সেখ, কান্দি 


মুর্শিদাবাদ জেলায় যাতে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় অক্সিজেনের অভাব না হয় তার জন্য বহরমপুরের কংগ্রেস সাংসদ তথা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীররঞ্জন চৌধুরী কিছুদিন আগে জেলাশাসক শরদকুমার দ্বিবেদীকে চিঠি লিখে নিজের লোকসভা কেন্দ্র তথা গোটা জেলায় অক্সিজেন প্ল্যান্ট গড়ে তোলার জন্য তড়িঘড়ি সাংসদ এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকা ছাড়বার অনুরোধ করেেছিলে ছিলেন। যেভাবে করোনা মহামারীর আকার নিয়েছে তাতে একমাত্র অক্সিজেন প্ল্যাটই ভরসা। কারণ এই অক্সিজেনের আকালে মানুষ মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটছে। তার কিছুদিন পর অধীর রঞ্জন চৌধুরী সাংবাদিক বৈঠক করে বলেছিলেন তার তহবিল থেকে অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি করছে বহরমপুরে, পাশাপাশি কান্দি মহকুমা হাসপাতালে জন্য তার তহবিল থেকে অক্সিজেন প্লান্ট করা হবে এবং অ্যাম্বুলেন্স দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিলেন। 

অধীর রঞ্জন চৌধুরীর সেই সাংবাদিক বৈঠক এর পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার কান্দির বিধায়ক তথা মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র অপূর্ব সরকার কান্দি পৌরসভা ভবন একটি সাংবাদিক বৈঠক করে জানালেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী অক্সিজেন প্লান্ট নিয়ে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে বলে দাবি করেন। 
 অপূর্ব সরকার বলেন মুর্শিদাবাদ জেলার সাতটি জায়গায় অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি হচ্ছে DRDO এর মাধ্যমে সরকারিভাবে এতে অধীর বাবুর কোনো ভূমিকা নেই। তাছাড়া একটি অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি করতে যত টাকা প্রয়োজন হয় সেই টাকা সাংসদ তহবিলে নেই! অধীর বাবু ফালতু কথা বলে তিনি সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন এ সমস্ত ভুলভাল কথা বলে।
  অপূর্ব সরকার আরো বলেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী অ্যাম্বুলেন্স কেনার কথা বলছেন একটি অ্যাম্বুলেন্স কেনার টাকাও তার তহবিলে বর্তমানে নেই তাহলে তিনি কিভাবে অ্যাম্বুলেন্স সংসদ তহবিল থেকে কিনবেন প্রশ্ন করেন। আর যেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই ধরনের বিভ্রান্তি মূলক কথা বলে রাজ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি না করে। অপূর্ব সরকার বলেন রাজ্য সরকার সব সময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে রাজ্য সরকার রাজ্যের প্রত্যেকটি জায়গায় যেখানে প্রয়োজন অক্সিজেন প্লান্ট তৈরি করছে  DRDO মাধ্যমে।

উল্লেখ্য মঙ্গলবার বহরমপুর জেলা কংগ্রেস কার্যালয়ে কংগ্রেস মুখপাত্র জয়ন্ত দাস জানিয়েছেন,
করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য মুর্শিদাবাদে এক হাজার বিশিষ্ট্য শয্যা বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক হাসপাতালের অক্সিজেন প্লান্ট অধীর রঞ্জন চৌধুরীর  চিঠি পেয়ে প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে DRDO কে অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরীর অনুমতি দেওয়া হয়। সেই অক্সিজেন প্ল্যান্ট মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে এসে পৌঁছায় এবং দ্রুত গতিতে প্ল্যান্ট বসানোর কাজ শুরু হয়। কিছু দিনের মধ্যে হাসপাতাল তৈরির কাজ শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি এমপি ল্যাডের টাকা দিয়ে যে অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরী হওয়ার কথা মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সেই অক্সিজেন প্ল্যান্টটিকে যাতে কান্দী হাসপাতালে স্থানান্তরিত করে সেখানে স্থাপন করা হয় তার জন্য অধীর চৌধুরী মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। গত কাল থেকেই এই খবর প্রকাশিত হতেই। আজকে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রদেশ কংগ্রেস অধীর রঞ্জন চৌধুরীর অক্সিজেন প্লান্টের বিভ্রান্ত কর মিথ্যা বলে জানালেন কান্দীর পৌর প্রশাসক তথা সাংসদ অপূর্ব সরকার। 

 

যদিও এই বিতর্কিত বিষয়ের বাইরে প্রাসঙ্গিক বিষয় হলো মুর্শিদাবাদের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক প্রশান্ত বিশ্বাস বলেন, “ডিআরডিও-র পক্ষ থেকে অক্সিজেন প্ল্যান্টের যন্ত্রাংশ এসে পৌঁছেছে। জেলায় এই প্রথম অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এতে অনেকটাই উপকৃত হবেন।” হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক কোটি টাকার এই প্রকল্পে বহু রোগী পরিষেবা পাবেন। একদিনে প্রায় ১৭০০ লিটার অক্সিজেন সরবরাহ করতে পারে এই অক্সিজেন প্ল্যান্ট। প্রায় ২০০ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার ভর্তি করা সম্ভব। ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক রঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘অক্সিজেন অভাবে বহু রোগীকে আমরা অকালে হারিয়েছি। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরে মুর্শিদাবাদ জেলায় এই প্রথম অক্সিজেন প্ল্যান্ট তৈরি হল। বহু রোগী এর ফলে রক্ষা পাবেন।’’





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।