মা-বাবা কে হারিয়ে অসহায় ছোট্ট ভাইবোন। চোরাবালির স্রোতে কী ভেসে যাবে আসমাতারা, মোজাম্মেলর জীবন?

1st June 2021 9:37 pm রাজ্য
মা-বাবা কে হারিয়ে অসহায় ছোট্ট ভাইবোন। চোরাবালির স্রোতে কী ভেসে যাবে আসমাতারা, মোজাম্মেলর জীবন?


মা-বাবা কে হারিয়ে অসহায় ছোট্ট ভাইবোন। চোরাবালির স্রোতে কী ভেসে যাবে আসমাতারা, মোজাম্মেলর জীবন?

জৈদুল সেখ, বড়ুঞা

 

জন্ম দিলেই মা-বাবা হওয়া যায়না আবার জন্ম গ্রহণ করলেও বাবা মার স্নেহ পাওয়া যায়না তার অমানবিক দৃষ্টান্ত বড়ুয়া থানার ফুটফুটে ফুলের মতো দুটি শিশু আসমাতারা এবং মোজাম্মেল। 
জানা গেছে শিশুদের মা'কে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে জমি বাড়ি বিক্রি করে বাবা কালু বিদেশে চলে গেছে ! শুধু তাই নয় পিতা বিদেশে গিয়ে আরও এক‌টি বিয়ে করেছে! গত দুবছর ধরে বাবা শিশুদের কোনো খোঁজ নেয় না। অসহায় শিশু দুটির একমাত্র শেষ সম্বল ছিল ঠাকুরমা কিন্তু আসমা জানায়


 "আমার দাদি বলেছে, আমার বৌ বেটা নাই তা তোদের নিয়ে কী করব! 

 


 

নির্বাক নিরহ শিশু দুটির চোখে কেবলই হতাশা, আশ্রয়হীন, মা হারা, বাবা হারা শিশু দুটির দুই বেলা খাবার আর নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় পথে পথে দিন কাটছে ছোট্ট আসমা এবং মোজাম্মেল ভাইবোনের! 

উল্লেখ্য কেবলমাত্র তাদের বাবা মা, ছেড়ে চলে গেছে  তাই নয় তাদের ভাগ্যের ভিটেমাটিও বিক্রি করে দিয়েছে। অসহায় ভাইবোন দুই বেলা খাবার আর নিরাপদ একটা আশ্রয়ের খোঁজে ভবঘুরে হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে মানুষের দুয়ার দুয়ারে কেউ ভাইবোনের মুখের পান তাকিয়ে ভালোবাসার আঁচলে আদর করে দু মুঠো খাবার তুলে দিচ্ছে! কেউবা দুদিনের দায়িত্ব নিয়ে থাকতে দিচ্ছে। আবারও কেউ করোনার আতঙ্কে গ্রাম ছাড়া করছে!  জানেনা তারা কোথায় রাত কিংবা দিন কাটবে কী খেয়ে বেঁচে থাকবে ! 

 এভাবেই গতকাল রাত থেকেই এই বাচ্চা দুটি বড়ঞা থানার ফতেপুর গ্রামে এসে ওঠে, সারারাত ধরে গ্রামের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ানোর পর সকাল হতেই গ্রামবাসীদের নজরে আসতে গ্রামের স্থানীয় এক মহিলা পারুল খাতুন ভাইবোনদের আশ্রয় দেন এবং খাওয়ার ব্যবস্থাও করেন। কিন্তু থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করে দিলেও পারুলের অভিযোগ আমরা এই অসহায় ভাইবোন শিশু দুটি যাতে নিরাপদ স্থান থাকে তারজন্য পুলিশ প্রশাসনকে এই বিষয়ে একাধিকবার জানালেও বড়ুয়ার প্রশাসনের তরফ থেকে কোনো হেলদোল বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
 


 বোন আসমাতারা বলেন " আমাদের কেউ নেই আমরা ইকটু ভালো যায়গায় থাকতে চাই পড়তে চাই! আমরা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ি। আরো পড়তে চাই। "


 এখন দেখার বিষয় ফুলের মতো দুটি শিশুর জীবন চোরাবালির স্রোতে ভেসে যাবে নাকি প্রশাসন তাদের সুস্থ জীবন গড়ে তুলতে সাহায্য করবে। 





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।