চতুর্থ স্তম্ভে ফাটল! এঁরা নির্বাচনের আগে এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় যান! সাংবাদিক সুচন্দ্রিমার প্রসঙ্গে কৌস্তব রায়

26th May 2021 11:49 pm জেলা
চতুর্থ স্তম্ভে ফাটল! এঁরা নির্বাচনের আগে এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় যান! সাংবাদিক সুচন্দ্রিমার প্রসঙ্গে কৌস্তব রায়


চতুর্থ স্তম্ভে ফাটল! এঁরা নির্বাচনের আগে এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় যান! সাংবাদিক সুচন্দ্রিমার প্রসঙ্গে কৌস্তব রায়

চেতনা নিউজ 

চতুর্থ স্তম্ভে ফাটল আজকের নয়, বহুকালের। আগে সে ফাটলে শ্যাওলা জমতো, ফাটল বড় হলে ঘুঘুপাখির বাসা হত, তারপর ঘুঘুপাখির বাচ্চা খেতে জাত কেউটের দলও জুটে গেল। এখন ফাটল অনেক বড়, সেখানে এখন নানান রকমের বাসিন্দা। এঁদের বেশিরভাগই দিল্লি কলকাতার লবি সামলান, সেই দৌলতেই টাকা কামান, সাংবাদিকতাটা ওপরের খোলসও বলাই যায়, এঁরা নির্বাচনের আগে এক নৌকা থেকে অন্য নৌকায় যান, যাব যাব করেন, বা সেই সময়টুকু থম মেরে বসে থাকেন, শিস দেন। নির্বাচনের পর চিত্র পরিস্কার হলে আবার মাঠে নেমে পড়েন। মমতার ওই বক্তৃতার পরেই ঘুরে গেলো নির্বাচনের চালচিত্র, গোছের পোস্ট এডিট লেখেন, আবার নোয়ার নৌকায় উঠে আগামী পাঁচ বছর দুধ ঘি মদ মধুর ব্যবস্থায় লেগে পড়েন। ঘটনাচক্রে এঁরা সব সিনিয়ার লোকজন, কেউ কচি নন, কেউ আবার ইউটিউবার, দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া একটি ধানের শিষের উপরে একটি শিশিরবিন্দু।
এই গোত্রের লোকজনের আজ ছুটি, ইয়াস আসবে, সকালে দুপুরে বিকেলে রাতের আয়োজন দিন দুই আগে থেকেই করা আছে, টিভি খোলা, ইয়াস উদযাপন যাকে বলে। এদিকে ইয়াস ঠিক যেরকম আসবে ভাবা গিয়েছিল সেরকমও নয়, কিন্তু কোস্টাল এলাকায় বিরাট ক্ষয়ক্ষতি, তো তাতে কী? এনারা তো রাজধানীর সাংবাদিক। খবরে দেখা গেলো একজন রিপোর্টার চলে গেছেন সমুদ্র উপকূলে, সেখান থেকে রিপোর্টিং করছেন, বিরাট ঢেউ এসে টেনে নিচ্ছে তাঁদের গাড়ি, তাঁরা প্রাণ বাঁচিয়ে কোনওক্রমে চলে আসতে পারছেন, স্বাভাবিক ট্রমা রিপোর্টারের মুখে, চতুর্থ স্তম্ভ অনুষ্ঠানের খাতিরে পরিচিত মুখ সুচন্দ্রিমা কাঁদছে, ট্রমাটাইজড, আমি থাকলে বলতাম কাঁদিস না, তোর অভিজ্ঞতাটা বল, মানুষ শুনতে চাইছে।
ব্যস, হাতে দুপুরের ভোদকা, ফাটলের কেউটে, দাঁড়াশ, ঢ্যামনা, ইঁদুর ছুঁচোরা মাঠে নেমে পড়ল, একে সাংবাদিকতা বলে? এদের পাঠিয়ে দিয়ে টি আর পি তোলার চেষ্টা চলছে। এদের কে বোড়ের মত এগিয়ে যারা স্টুডিওতে বসে কপচাচ্ছে তাঁরা কারা? সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলেই যেতে হবে? কেন দীঘার হোটেলের ছাদ ছিল না? একদিনে সাংবাদিক হইতে গেলে কী করিতে হইবে, শিখিয়ে দিলেন কারা? যারা সাংবাদিকতার নামে আসলে নেহাতই দালাল, এবং কিছু মানুষ তাঁদের এই অসার যুক্তি নিয়ে ফেসবুকে, সোশ্যাল মিডিয়ায়। অক্ষমের হাহুতাশ, ক্ষমতার অলিন্দে ঘুরে বেড়ানো আড়কাঠিদের হঠাৎ সমবেত চিৎকার।
এঁরাই বরখা যখন কারগিল ফ্রন্টে গুলি গোলার মধ্যে বসে রিপোর্টিং করে, তখন ইল্লি ইল্লি দেখেছিস, দেখেছিস করে, এঁরাই ফক্স এর সাংবাদিক অ্যাভাল্যান্স এর সামনে দাঁড়িয়ে ক্যামেরায় কথা বলছে দেখে আঙুল তুলে দেখায়, দেখো, ওই হল সাংবাদিকতা। তাঁরাই আজ সুচন্দ্রিমার ভেসে যাওয়ার পেছনে চ্যানেল মালিকের, এডিটরের টি আর পি প্রেম দেখছেন সাংবাদিকতা নয়।
হ্যাঁ আমরা সাংবাদিকদের ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি, মানুষের চোখ যেখানে যেতে চায় সেখানে পাঠিয়েছি, মানুষ যা দেখতে চায় তাই তুলে আনার নির্দেশ দিয়েছি, তার সঙ্গে সব রকম সুরক্ষার দায়ও নিয়েছি, এই মুহূর্তে ১৩ জন রিপোর্টার বিভিন্ন জায়গা থেকে কলকাতা টিভির খবর পাঠাচ্ছেন, তাঁরা গ্রাউন্ড জিরো থেকেই খবর পাঠাচ্ছেন, সেখান থেকেই তাঁদের খবর পাঠানোর কথা। সুচন্দ্রিমা এর আগেও এই কাজ করেছে, ভালো ভাবেই করেছে, এবারেও করেছে, যোগ হয়েছে একটা দুর্ঘটনা যা এই কলকাতায় অফিসের সামনে একটা রোড অ্যাকসিডেন্ট এরই মত স্বাভাবিক। আমাদের রিপোর্টারদের ওপর আমার আস্থা আছে, ভরসা আছে, প্রতিবার বের হবার সময় তাঁদের বলে দেওয়া হয়, খবর করতে যাও, খবর হতে নয়, এ কথা তাঁরা মাথায় রাখে, তারপরে তাঁরা পৌঁছয় গ্রাউন্ড জিরোতে, থাকে খবরের খিদে, আরও নতুন খবরের জন্য শরীরের অ্যাড্রেনালিন চলকে ওঠে, ঝুঁকি নেয়, সেটাই সাংবাদিকতা। 
লালকৃষ্ণ আদবানির জামার হাতা গুটিয়ে দেওয়া, কিংবা জগত প্রকাশ নাডডার বক্তৃতা ঠিক করে দেওয়া অথবা সকালে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে চা জলখাবার খেয়ে সারাদিন কাটিয়ে রাতের অন্ধকারে মুকুল রায় কিংবা কৈলাস বিজয়বর্গীয় কাছে ঘানির সরষের তেল ঢালতে যাওয়া ‘আসোল পোরিবরতন’ চাওয়া খাম সাংবাদিকদের এই অ্যাড্রেনালিন ঝরেছে কখনও? 
আবার ঝড় আসবে, আবার নির্বাচন আসবে, পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে দাঙ্গাবাজদের মাঝখানে গিয়েই কাজ করবে রিপোর্টাররা, কাজ করবে সুচন্দ্রিমা, আবার সেই খবর দেখানো হবে আমাদের চ্যানেলে, সেটাই জবাব, আপাতত ওই ফাটলের যাবতীয় সরীসৃপদের উপেক্ষা করুন।

Kaustuv Ray
Editor, Kolkata TV





Others News

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল

১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিলেন অর্পিতা পাল


মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসুস্থ পরীক্ষার্থী!  হাসপাতালে পরীক্ষার ব্যবস্থা করল সরকার 

 

  • ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিল অর্পিতা পাল 
  • দীর্ঘদিন পর খাতা কলমে শুরু হলো মাধ্যমিক, পরিদর্শনে বিডিও 

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি


রাজ্যের পাশাপাশি মুর্শিদাবাদ জুড়ে আজ থেকে শুরু হলো মাধ্যমিক পরীক্ষা। দীর্ঘ দুই বছর করোনা মহামারিতে অনলাইনে ক্লাস, ও পরীক্ষার পর এবার অনলাইন মুড কাটিয়ে জীবনের প্রথম সব চাইতে বড় পরীক্ষায় বসলেন সকল মাধ্যমিক ছাত্র ছাত্রীরা।করোনা মহামারীর কারণে বিগত বছরগুলোর রেকর্ড ভেঙে, এই বছর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন,ছাত্র ছাত্রীরা। এই মাধ্যমিক পরীক্ষায় বিভিন্ন পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন মত প্রকাশ করেছেন কান্দি বিভিন্ন স্কুল উঠে এলো এমনই চিত্র। প্রথম দিন পরীক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানানো হয় অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে। এদিন বেলা ১১ টা ৪৫ মিনিটে পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে পরীক্ষার্থীরা প্রবেশ করে। কান্দির বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রগুলিতে কড়া সতর্কতার মধ্যে শুরু হয় পরীক্ষা।


     করোনা বিধি মেনে মাস্ক, স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি মহকুমার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র গুলিতে। করোনা কালে বন্ধ ছিল স্কুল, ব্যাঘাত ঘটে পড়াশোনার। সব ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনের বড় পরীক্ষায় সন্তানরা। কোভিডকালের পরে এই প্রথম বড় পরীক্ষা ঘিরে অভিভাবকরাও ছিলেন উচ্ছ্বসিত। কান্দির বিভিন্ন স্কুলগুলির গেটের বাইরে দেখা যায় অভিভাবকদের ভিড়ও।
    মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন অসুস্থ্য হয়ে পড়ে  রুপালি খাতুন নামে পাঁচথুপি গার্লস বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী। তার পরীক্ষা সেন্টার পড়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বড়ঞা ব্লকের বাহাদুরপুর নিমা হাই স্কুলে। পরীক্ষা শুরুর শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরীক্ষা দিতে অক্ষম হয়ে পড়লে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে প্রথমে স্থানীয় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করা হয় এবং রাজ্য সরকার তথ্য মধ্য শিক্ষা পর্ষদের পক্ষ থেকে পরীক্ষা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয় বলে জানিয়েছেন বাহাদুর পুর নিমা হাইস্কুলে শিক্ষক সুভাষচন্দ্র দে।  ছাত্রীটিকে হাসপাতালের একটি কক্ষে সুনিশ্চিত নিরাপত্তা ও শিক্ষকের উপস্থিতিতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরীক্ষা দেয়ার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় প্রশাসন এবং বোর্ডকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন পরীক্ষার্থীর পরিবার।
     অন্যদিকে ১৮ দিনের বাচ্চা কোলে নিয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে নজির সৃষ্টি করল অর্পিতা পাল। সদ্যোজাত শিশুকে কোলে নিয়ে অর্পিতা পাল এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্নকে জাগ্রত করল। ঘটনাটি মুর্শিদাবাদের বড়ঞা ব্লকের আন্দি উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮ দিনের বাচাকে কোলে নিয়েই জীবনের প্রথম পরিক্ষা দিতে কুলি মহা বিদ্যাপীঠে আসে।অতিমারির পর পরীক্ষা দিতে পেয়ে খুশি অর্পিতা সহ তার পড়িবার।


পরীক্ষা শুরুর পর জীবন্তির উদয়চাঁদ হাইস্কুল সহ একাধিক স্কুল পরিদর্শন করেন কান্দি বিডিও নীলাঞ্জন মন্ডল।

পরীক্ষা যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য সমস্ত রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল কান্দি পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে ।