টিভি, ফ্রিজ, টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে তৃণমূল অভিযোগ অধীরের

28th April 2021 8:29 pm রাজ্য
টিভি, ফ্রিজ, টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে তৃণমূল অভিযোগ অধীরের


টিভি, ফ্রিজ, টাকা দিয়ে ভোট কিনতে চাইছে তৃণমূল অভিযোগ অধীরের 

জৈদুল সেখ, বহরমপুর 

বৃহস্পতিবার শেষ দফার ভোট প্রতিটি রাজনৈতিক দল নিজের গড় রক্ষা করতে মরিয়া। প্রতিটি পাড়ায় পাড়ায় দেওয়াল ফ্লাগ ফেস্টুনে সেজে উঠেছে, প্রচারে চলছে তর্জা তার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির বিতর্ক। বুধবার অধীর রঞ্জন চৌধুরী নিজের বাড়ি থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা খরচ করে ভোট কেনার অভিযোগ তোলেন। 
অধীর বলেন, ‘‘শেষ দফার ভোটে মুর্শিদাবাদে বিভিন্ন
বস্তি এলাকায় গরিব মানুষকে গিয়ে বলছে, আধার কার্ড নিয়ে এসো আমরা ২ হাজার, ৫ হাজার টাকা করে দেব। গরিব মানুষ ভাবছেন, আধার কার্ডের এত মূল্য! তাই কার্ড নিয়ে চলে যাচ্ছেন।’’
 বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে তৃণমূলের লোকেরা আধার কার্ড নম্বর নিচ্ছে এবং টাকার বিনিময়ে তৃণমূল ভোট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি এই রকমের নীচতা, সঙ্কীর্ণতা, ধৃষ্টতা, চালাকি করে যত রকম ভাবে সম্ভব মানুষকে প্রলোভন দেওয়া, ধাপ্পা দেওয়া সম্ভবস সব চেষ্টা করছে তৃণমূল। বাড়ি বাড়ি দিয়ে প্রার্থী বলছেন, ‘ফ্রিজ দেব, টিভি দেব।’ ভোটের জন্য মানুষকে ফ্রিজ এবং এলইডি টিভি দিয়ে দিচ্ছে তৃণমূল।’’

করোনা সঙ্কটে জনসভা বাতিল করার পর সম্প্রতি তিন দিন মুর্শিদাবাদে ছিলেন মমতা। সেখানে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নির্বাচনী রণকৌশল নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন তিনি। ওই তিন দিনে মমতা যা নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন, তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা তা-ই পালন করছেন বলে অভিযোগ করেন অধীর। তিনি আরও বলেন, ‘‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে মুর্শিদাবাদে কোটি কোটি টাকা খরচ করছে তৃণমূল। তিন দিন ধরে এখানে থেকে তৃণমূলের হার্মাদ বাহিনীকে নামিয়ে প্রশাসনের একটা অংশকে ঢালাও অর্থ দিয়ে ভোট লুঠ করতে বলে গিয়েছেন। সাম্প্রদায়িকতার রাস্তা তৈরি করে গিয়েছে।’

তৃণমূলের লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে নগদ টাকার টোপ দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন অধীর। তাঁর দাবি, এসব আর কিছুই নয় টাকা দিয়ে ভোট কেনার চেষ্টা। তাই সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্যে অধীর বলেন 
"আপনারা এই প্রলোভনে পা দেবেন না, আপনারা গত ১০ বছরের মূল্যায়ন করুন, তারা ১০ বছরে কিছু করেনি বলেই আজ গরিব মানুষ কে টাকার লোভ দেখাচ্ছে, কিন্তু মুর্শিদাবাদের মাটি বীরদের মাটি, তারা লড়াই করবে কিন্তু টাকা বা কোনো লোভের সামনে মাথা ঝোঁকাবে না, আগামীকাল ভোট দেবেন নিজের বিচার বুদ্ধির ওপর, মনে রাখবেন আপনাকে ভোটের জন্য ঘুষ দিতে এই কারণেই চাইছে, যাতে ভোটে তারা জিতে আপনাদের থেকে ১০ গুণ লুঠে নিতে পারে, 
মুর্শিদাবাদের মানুষ আপনারা ঠিক ভুল জানেন, আগামীকাল সেটাই জানাবেন ইভিএমএ "

অন্যদিকে কান্দীর তৃণমূলের প্রার্থী অপূর্ব সরকার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন  " অধীর বাবু করোনা সময় বাড়িতে বসে বসে টিভি ফ্রিজের গল্প করছিল তাই এই সব ভিত্তিহীন অভিযোগ বলে কটাক্ষ করেন। "







Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।