চলে গেলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক আলেম ‘বক্তা সম্রাট’ গোলাম আহমাদ মোর্তজা

15th April 2021 11:41 am দেশ
চলে গেলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক আলেম ‘বক্তা সম্রাট’ গোলাম আহমাদ মোর্তজা


চলে গেলেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক আলেম ‘বক্তা সম্রাট’ গোলাম আহমাদ মোর্তজা

জৈদুল সেখ★ চেতনা নিউজ 

 

রাজ্য তথা উপমহাদেশের বিশিষ্ট আলেম ‘বক্তা সম্রাট ও বহু গ্রন্থ প্রণেতা বিশিষ্ট ঐতিহাসিক গোলাম আহমাদ মোর্তজা ইন্তেকাল করলেন। বৃহস্পতিবার (১৫ এপ্রিল) ভোর ৩.০৫ নাগাদ কলকাতার জিডি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন)। 
 
১৯৩৮ সালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার মেমারিতে জন্মগ্রহণ করেন গোলাম মোর্তজা। মৃত্যুকালে বর্ষীয়ান এই ইতিহাসবিদের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তিনি ৬পুত্র ও এক কন্যা, দেশ ও দেশের বাইরে অসংখ্য ভক্ত অনুরাগী রেখে গেছেন। পশ্চিমবঙ্গের বাইরে বাংলাদেশেও সমানভাবে সমাদৃত ছিলেন প্রথিতযশা ইতিহাসবিদ গোলাম মোর্তজা। তাঁর মৃত্যুতে বাংলার মুসলিম সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

গােলাম আহমদ মাের্তজা ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ। তাঁর ইতিহাস গবেষণা বিশেষ করে চেপে রাখা ইতিহাস, একসময়ে গােটা বাংলা জুড়ে ঝড় তুলেছিল। তিনি পবিত্র কুরানের আনুবাদও করেন। তিনি একদিকে ছিলেন যেমন সুবক্তা সুলেখক তেমনি ছিলেন সফল সমাজ কর্মী। তাঁর একান্ত উদ্যোগে মেমারিতে গড়ে ওঠে মদিনাতুল উলুম এবং মামুন ন্যাশনাল স্কুল। তিনি প্রথাগত শিক্ষার উর্ধ্বে উঠে কর্মমুখী শিক্ষার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরােপ করেন। মাদ্রাসাতেও তিনি ভােকেশনাল ট্রেনিং এর ব্যবস্থা করেন।


ইতিহাসের ইতিহাস, চেপে রাখা ইতিহাস, এ এক অনন্য ইতিহাস, বজ্র কলম, পুস্তক সম্রাট প্রভৃতি বই লিখে তিনি সাড়া জাগিয়েছিলেন। ‘ইতিহাসের ইতিহাস’ বইটি পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৮১ সালে বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করে।
 
স্বাধীনতার আগে মরহুম গোলাম আহমাদ মোর্তজার জন্ম বর্ধমানের মিরেরডাঙা গ্রামে। ১৯৬৮ সাল নাগাদ তিনি মেমারিতে মুসলিমদের আধুনিক ও ইসলামি শিক্ষার মিশেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্দেশ্যে শুরু করেন মেমারি টেকনিক্যাল মাদ্রাসা। পরে তা মেমারি জামিয়া ইসলামিয়া মদিনাতুল উলুম নামে পরিচিত হয়।
মরহুম মোর্তাজা মেমারিতেই মুসলিমদের জন্য ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল মেমারি ন্যাশনাল স্কুল শুরু করেন। নানা কারণে তা বন্ধ করে দিতে হলেও পরে মামূন ন্যাশনাল স্কুল নামে ইসলামিক মিশন স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন, যা রাজ্যের মধ্যে সুনাম কুড়িয়েছে। মুসলিম শিক্ষার প্রসারে বিশেষ ভূমিকা নিয়ে চলেছে। তিনি ছিলেন কুরআনে হাফিজ।




Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।