কান্দীতে কংগ্রেস কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি, বিজেপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ

5th April 2021 3:43 pm দেশ
কান্দীতে কংগ্রেস কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি, বিজেপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ


কান্দীতে কংগ্রেস কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি, বিজেপির পার্টি অফিসে হামলার অভিযোগ

জৈদুল সেখ, কান্দী

রাজ্যে দু দফা ভোট হয়ে গিয়েছে। এখনও রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে আসছে বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষের খবর। এবার কংগ্রেস কর্মীকে লক্ষ্য করে চলল গুলি। বিজেপি সমর্থকের দোকানেও হামলার ঘটনা।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল মুর্শিদাবাদের কান্দি। রবিবার রাতে কংগ্রেস কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চলেছে বলে অভিযোগ। লক্ষ্য ভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান ওই কংগ্রেস কর্মী। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে, মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত লোহাপট্টি এলাকায়। জানা গিয়েছে, কংগ্রেস কর্মী চঞ্চল বারিক দেওয়াল লিখনের কাজ খতিয়ে দেখার পর চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। সেই সময় আচমকা তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এসে মারধর শুরু করেন। এরপর তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে তারা। তাঁর দাবি, লক্ষ্য ভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বেঁচে যান তিনি। ঘটনায় কান্দি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে কংগ্রেস নেতৃত্ব, থানায় গিয়ে বিক্ষোভও দেখান তারা।

একই সঙ্গে কান্দি বাজারে আলুপট্টি এলাকায় এক বিজেপি সমর্থকের দোকানে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় বিজেপি প্রার্থী ও বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্ব ও এসে বিক্ষোভ দেখায় কান্দি থানার সামনে।

রাতেই থানায় যান, কান্দি বিধানসভা কেন্দ্রের কংগ্রেস প্রার্থী সফিউল আলম খান। কংগ্রেস কর্মীকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি। কান্দির বিজেপি প্রার্থী গৌতম রায় জানিয়েছেন তাঁদের কর্মীদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। রাতেই সেই খবর পেয়ে ছুটে যান তিনি। তাঁর দাবি দলমত অন্য হতেই পারে, তবে কান্দির সংস্কৃতি রক্ষা করাই আসল। পুলিশ দ্রুত তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

বিধানসভার কংগ্রেস প্রার্থী সফিউল আলম খান ও বিজেপি প্রার্থী গৌতম রায়। দুই প্রার্থীই একযোগে তৃণমূলের দিকে আঙ্গুল তুলেছেন। যদিও তাঁদের দলের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কান্দি বিধানসভার তৃণমূলের  প্রার্থী অপূর্ব সরকার। 

প্রসঙ্গত নির্বাচনে যে কোনও ধরনের অশান্তি এড়াতে তৎপর পুলিশ প্রশাসন। ইতিমধ্যেই জেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রচুর পরিমানে বোমাও উদ্ধার হয়েছে। রবিবারই মুর্শিদাবাদের খড়গ্রামের সুন্দর গ্রামে একটি কন্টেনার থেকে প্রায় ৫০ - ৬০টি তাজা বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বম্ব স্কোয়াড গিয়ে সেগুলিতে নিষ্ক্রিয় করে। তার আগে শুক্রবার জেলারই সুতি থানার অন্তর্গত চাঁদরা এলাকায় একটি আমবাগানে ২ কন্টেনার ভর্তি বোমা উদ্ধার করে পুলিশ। সবকটি ঘটনাতেই শুরু হয়েছে তদন্ত। 





Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।