এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অবিলম্বে ‘রিজেকশন স্লিপ’ দেওয়ার নির্দেশ কেন্দ্রের

29th March 2021 3:55 pm দেশ
এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অবিলম্বে ‘রিজেকশন স্লিপ’ দেওয়ার নির্দেশ কেন্দ্রের


এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অবিলম্বে ‘রিজেকশন স্লিপ’ দেওয়ার নির্দেশ কেন্দ্রের

চেতনা নিউজ

অসমে এখন বিধানসভা নির্বাচন চলছে। কিন্তু সমস্যা পড়েছিলেন অসমে চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিক পঞ্জি প্রকাশের পর যাদের নাম বাদ গিয়েছিল তারা। এ ব্যাপারে অবশেষে কেন্দ্রীয় সরকার অসম সরকারকে এক নির্দেশ জারি করে জানিয়ে দিয়েছে  চূড়ান্ত জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি থেকে যাদের নাম বাদ পড়েছে তাদেরকে অবিলম্বে ‘রিজেকশন স্লিপ’ ধরিয়ে দিতে হবে। 
উল্লেখ্য, চূড়ান্ত এনআরসি তালিকায় নাম তুলতে অসমে মোট ৩ কোটি ২৯ লাখ আবেদন পড়েছিল। তার মধ্য থেকে চূড়ান্ত দফায় ১৯ লাখের বেশি মানুষের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। অর্থাৎ তারা ভারতের নাগরিক নন বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরিা প্রায় সবাই বাঙালি। তার মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের সংখ্যাই বেশি। এসব বাদ পড়া মানুষকে অবিলম্বে ‘রিজেকশন স্লিপ’ ধরিয়ে দিতে আসাম সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। 
 

কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে,  ৫ বছর মেয়াদি এনআরসি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সরকারের মোট খরচ হয়েছে ১২২০ কোটি টাকা।

২৩শে মার্চ অসমের স্বরাষ্ট্র সচিব এসআর ভুইয়ার কাছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে রেজিস্ট্রার জেনারেল অব ইন্ডিয়া (আরজিআই) অফিস একটি চিঠি লিখেছে।
এতে বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী ২০১৯ সালের ৩১ শে আগস্ট নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি থেকে যাদেরকে বাদ দেয়া হবে বা যাদেরকে এতে সংযুক্ত করা হবে তার একটি সম্পূরক তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। তা সত্ত্বেও এনআরসি থেকে যাদেরকে বাদ দেয়া হয়েছে তাদেরকে এখনও রিজেকশন স্লিপ দেয়া শুরু হয়নি। এর আগে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বলেছিল, এনআরসি থেকে কোন ব্যক্তির নাম বাদ পড়া মানে এই নয় যে, তাকে বিদেশি হিসেবে ঘোষণা করা হবে। তাদেরকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সুযোগ দেয়া হবে। সেই সুযোগে তারা তাদের ঘটনাগুলোকে ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে তুলতে পারেন। এ জন্য সময় ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ১২০ দিন করা হয়। 





Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।