প্রয়াত হলেন সিপিএমের প্রবীণ নেতা শ্যামল চক্রবর্তী, রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া

6th August 2020 2:59 pm রাজ্য
প্রয়াত হলেন সিপিএমের প্রবীণ নেতা শ্যামল চক্রবর্তী, রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া


প্রয়াত হলেন সিপিএমের প্রবীণ নেতা শ্যামল চক্রবর্তী, রাজনৈতিক মহলে শোকের ছায়া

কলকাতা: বাম রাজনীতির একটি অধ্যায়ের অবসান। করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন সিপিএমের প্রবীণ নেতা শ্যামল চক্রবর্তী৷  পয়লা আগস্ট থেকে তিনি ভেন্টিলেশনে ছিলেন৷ গত কিছুদিন ধরে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল৷ আজ দুপুরে পিয়ারলেস হাসপাতালের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী শ্যামল চক্রবর্তী৷ 

প্রয়াত প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তী৷ তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ কিছুদিন ধরে ভালো যাচ্ছিল না৷ একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইটিইউয়ে তাঁকে ভর্তি করা হয়৷ শ্যামলবাবুর শ্বাসকষ্টের সমস্যা থাকায় সেখানে তাঁকে অক্সিজেন সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছিল৷ ছিল নিউমোনিয়া৷ করোনা আক্রান্ত ছিলেন তিনি৷

জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন কয়েক আগে জ্বর ও বুকে ‘কনজেশন’ নিয়ে শ্যামলবাবু ভর্তি হন একটি বেসরকারি হাসপাতালে৷ গত ৩০ জুলাই কোভিড-১৯ রিপোর্ট পজিটিভ আসে তাঁর৷ ৩১ তারিখ ভর্তি হন হাসপাতালে৷ কিন্তু, সব চেষ্টা ব্যর্থ করে আজ দুপুরে প্রয়াত হয়েছেন বর্ষীয়ান সিপিএম নেতা শ্যামল চক্রবর্তী৷ বাবাকে হারিয়ে স্তব্ধ মেয়ে অভিনেত্রী ঊষসী চক্রবর্তী৷ বড় ক্ষতি হয়ে গেল, প্রতিক্রিয়া বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীর৷

দীর্ঘদিন ধরে দক্ষ হাতে বাম শ্রমিক সংগঠন সিটু সভাপতি পদে দায়িত্ব সামলেছেন শ্যামল চক্রবর্তী৷ শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব নেওয়ার পাশাপাশি বাম আমলে পরিবহন মন্ত্রীর পদেও নিজের দক্ষতা দেখিয়েছেন৷ একইসঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদও ছিলেন তিনি৷ সম্প্রতি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ইস্যুতে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে৷ কিন্তু আচমকা করোনা সংক্রমণ গোটা পরিস্থিতি বদলে দিল৷





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।