ঘোষণা হল ঈদের দিন, তবে এবার কোলাকুলি না করার নির্দেশ দিলেন শাহী ইমাম

23rd May 2020 9:09 pm দেশ
ঘোষণা হল ঈদের দিন, তবে এবার কোলাকুলি না করার নির্দেশ দিলেন শাহী ইমাম


ঘোষণা হল ঈদের দিন, তবে এবার কোলাকুলি না করার নির্দেশ দিলেন শাহী ইমাম


চেতনা নিউজ


নয়াদিল্লি: ঈদের দিন ঘোষণা করলেন দিল্লির জামা মসজিদের শাহি ইমাম। শনিবার চাঁদ দেখা যায়নি। তাই ২৫ মে অর্থাৎ সোমবারই ইদ পালিত হবে বলে জানালেন ইমাম সৈয়দ আহমেদন বুখারি।

একইসঙ্গে করোনা পরিস্থিতিতে সব গাইডলাইন মেনে চলার কথা বলেন তিনি। হাত মেলানো বা কোলাকুলি করা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। বলেছেন, সতর্কতা নেওয়া ও সোশ্যাল ডিসট্যান্স মেনে চলা খুবই জরুরি। সরকারের নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে।

এবার ঈদ অন্যান্যবারের তুলনায় আলাদা। রমজানও ছিল অনেকটাই অন্যরকম। মুসলিমরা বাড়িতে বসেই এবার ইফতার সেরেছেন। নমাজ পড়তেও বাইরে যাননি অনেকে। তাই, ইদেও এবার প্রথা মেনে একসঙ্গে নমাজ পড়া হয়ত হবে না।

আগেই ইসলামের ধর্মীয় শিক্ষাকেন্দ্র দারুল উলুম দেওবন্দ তাদের এক নির্দেশিকায় মুসলিমদের এবার নিজেদের ঘরের ভেতরেই ঈদ পালন করতে বলেছে। দেওবন্দ বলেছে, মহামারি ঠেকাতে এবারের ঈদে বড় জমায়েত থেকে দূরে থাকাই উচিৎ।

প্রথা মেনে প্রতিবারের মতো সবাইকে নিয়ে যাতে ঈদ উদযাপন না-করা হয়, সে জন্য ‘হ্যাশট্যাগ নো ঈদ সেলিব্রেশন’ কিংবা ‘হ্যাশট্যাগ নো নিউ ক্লোদস ইন ঈদ’ সোশ্যাল মিডিয়াতেও ট্রেন্ড করছে।

১৮ কোটিরও বেশি মুসলিম থাকেন যে ভারতে। ফলে, স্বাভাবিকভাবেই ঈদের উদযাপন দেশের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব।

কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারী ঠেকাতে যে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার নিদান সারা দেশকে মেনে চলতে বলা হচ্ছে, তাতে সাড়া দিয়ে ইসলামের ধর্মীয় নেতারাও এবারে শুধু নিজের পরিবারের ও বাড়ির মধ্যেই ঈদ পালন করার ডাক দিচ্ছেন।

সৌদি আরবে পবিত্র ঈদ উল ফিতর আগামী রবিবার উদযাপিত হবে। সেদেশে শুক্রবার পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। অর্থাৎ এ বছর সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শনিবার রমজান পূর্ণ হবে।

গলফ নিউজ, খালিজ টাইমস ও আরব টাইমসে প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সৌদি আরবের কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যায়নি। তাই আগামী রবিবার ঈদ উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

এবার সৌদি আরবে ঈদের নমাজ নিজ নিজ ঘরেই করতে হবে। কারণ করোনা পরিস্থিতিতে ঈদের ছুটির সময় সেখানে কার্ফু ঘোষণা করা হয়েছে। ঈদের সময় মসজিদগুলো বন্ধ থাকবে।

সৌদি গেজেট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার বিকেল ৫ টা থেকে দেশটিতে কার্ফু জারি করা হয়েছে। আগামী ২৭ মে পর্যন্ত এই কার্ফু জারি থাকবে





Others News

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা। বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।

যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে গোকর্ণের স্নেহা।  বাড়ি ফেরাতে কাতর আবেদন পরিবারের।


ডাক্তারি পড়তে ইউক্রেনে আটকে কান্দির স্নেহা! বাড়ি ফেরানোর কাতর আবেদন পরিবারের

 

রঙ্গিলা খাতুন, কান্দি 

বাবা মায়ের একটাই চিন্তা মেয়ে কবে বাড়ি ফিরবে! ইউক্রেনের গোলাবারুদে সবথেকে বিপাকে পড়েছেন সেদেশে পড়তে যাওয়া ভারতীয় পড়ুয়ারা।চিন্তিত কান্দির গোকর্ণ পরিবার। ডাক্তারি পড়তে গিয়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে পড়েছে কান্দির গোকর্ণ গ্রামের ছাত্রী স্নেহা দাস। ভয়ঙ্কর দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন তার পরিবারের লোকেরা। কবে ফিরবে? কীভাবে ফিরবে? সেই আশায় তাকিয়ে রয়েছেন তার পরিবার। 
    উল্লেখ্য মুর্শিদাবাদের কান্দি থানার অন্তর্গত গোকর্ণের পানপাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্নেহা দাস। পিতা সাধন দাস গৃহশিক্ষক, মা শম্পা দাস। গোকর্ণ এন জি গার্লস হাইস্কুলের মেধাবী ছাত্রী ২০১৩ সালে মাধ্যমিক এবং তারপর গোকর্ণ প্রসন্নময়ী হাইস্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চমাধ্যমিক পড়াশোনা করে ডাক্তারি পড়াশোনার জন্য ইউক্রেনের পলতভা স্টিট মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হোন। কভিডের জন্য অনলাইনে ক্লাস চললেও, গত মাস থেকে অফলাইনে ঠিকমতো পড়াশোনা হচ্ছিল। 
        স্নেহা দাস সংবাদ মাধ্যমে জানান " গত বুধবার থেকে কলেজের ক্লাস বন্ধ হয়েছে। রুশবাহিনার দাপটে ঘর বন্দী। ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ৫০০ কিমি দূরে পলতভা এলাকায় রয়েছি। সেখানে রুশ বাহিনীর তান্ডব কম তবুও আতঙ্কে রয়েছি। এমন বিপদে পড়ব দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারিনি। আমি দ্রুত বাড়িতে ফিরতে চাই। "
     এই মেধাবী ছাত্রীর জন্য চিন্তায় পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষক থেকে এলাকার বাসিন্দা।
      স্নেহার পিতা সাধন দাস বলেন " আমার দুই মেয়ে, বড়টা গত তিন বছর হলো ডাক্তারি পড়তে গিয়েছে। কখনো চিন্তা করিনি কিন্তু যুদ্ধের খবর শুনে রাতে ঘুম আসছে না! সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে সরকারের কাছে অনুরোধ করছি যাতে করে আমার মেয়েকে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন।"


     স্নেহার মা শম্পা দাস বলেন " যুদ্ধ হচ্ছে শুনেই মেয়ের জন্য খুব চিন্তা হচ্ছে! গতকাল রাত্রে মেয়ের সঙ্গে কথা হয়েছে, খুব চিন্তায় আছে। তবে মেয়ের দুজন সিনিয়ার বান্ধবী আছে তারা ওকে খুব সাহায্য করছেন। সরকার যেন আমার মেয়েকে বাড়িতে ফেরার ব্যবস্থা করে দেন "
     প্রসঙ্গত বাংলার অনেক পড়ুয়া যুদ্ধ বিধ্বস্ত ইউক্রেনে আটকে রয়েছে। ইতিমধ্যেই নবান্ন এবং ভারতের বিদেশ মন্ত্রক পড়ুয়াদের দেশে ফিরিয়ে আনতে তৎপর শুরু করেছেন।
     এ বিষয়ে স্নেহার কাকা প্রার্থ দাস বলেন " গতকাল নবান্নের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তারা আশ্বাস দিয়েছেন লিষ্ট এবং দূরত্ব অনুযায়ী খুব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে আনা হবে। "


    কেবলমাত্র স্নেহা আতঙ্কিত তাই নয় তার পরিবারের সকলেই আতঙ্কিত, চিন্তিত। এমতাবস্থায় কতদিনের মধ্যে ফিরবে সেদিকেই তাকিয়ে পরিবার।