চাকরি প্রার্থীদের লাইনে চরম বিশৃঙ্খলা থামাতে লাঠি চার্জ পুলিশের বহরমপুরে

4th December 2021 3:52 pm রাজ্য
চাকরি প্রার্থীদের লাইনে চরম বিশৃঙ্খলা থামাতে লাঠি চার্জ পুলিশের বহরমপুরে


চাকরি প্রার্থীদের লাইনে চরম বিশৃঙ্খলা থামাতে লাঠি চার্জ পুলিশের বহরমপুরে 

( পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ বেকারত্ব ফুঁসছে) 

 

জৈদুল সেখ, বহরমপুর 

মন্ত্রী হুমায়ূন কবির এর উদ্যোগে ও মুর্শিদাবাদ জেলার প্রেরণা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের উদ্যোগে মুর্শিদাবাদ জেলার ১২০০ বেকার যুবকের কর্মসংস্থান এর ব্যাবস্থা করার কথা বলা হয় দিন কয়েক আগে । 
    সেইমতো বহরমপুর স্টেডিয়াম মাঠে শনিবার সংস্থার কর্মসংস্থানের জন্য ফর্ম জমা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়। ফর্ম জমা দিতে মাঠে হাজির হয় মুর্শিদাবাদ জেলার প্রায় তিন লক্ষ শিক্ষিত বেকার যুবকের লম্বা লাইন যার ফলে সকাল থেকেই লাইনে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ফর্ম আগে জমা দেওয়ার জন্য লাইনের মধ্যেই ধাক্কাধাক্কি শুরু হয় । পরিস্থিতি সামাল দিতে লাইনের মাঝে লাঠি চার্জ করে পুলিশ।


   

      চাকরি প্রার্থী চিরঞ্জিত মন্ডল বলেন " লকডাইনের সুযোগে সরকার চাকরি বন্ধ করে দিয়েছে, প্রাইমারি থেকে আপার, হাইস্কুল, ক্লার্ক লক্ষ লক্ষ শূন্য পদ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ নেই! তাই আমাদের এই অবস্থা! " এখান থেকেই প্রশ্ন উঠেছে বেকারত্বের জ্বালা নিয়ে। 
       

বামপন্থী  ছাত্র নেতা সন্দীপন দাস বলেন "আমরা সরকারের কাছে বার বার দাবী করেছি এই বাংলায় লক্ষ লক্ষ যুবকদের নিয়োগ করার জন্য কিন্তু ২০১৪ সালের আপার প্রাইমারি যারা এখনো পর্যন্ত নিয়োগ করতে পারে না, ভুল।  পরিকল্পিত ভাবে করে না, সেই সরকারের আসল চেহারা হলো এই লক্ষ লক্ষ ছেলেদের লম্বা লাইন তাও আবার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থায় কাজ করার জন্য, একবার ভাবুন সরকারি হলে কী অবস্থায় হত! 


        উল্লেখ্য বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল মুর্শিদাবাদ জেলার বেকার যুবকদের জন্য বিশিষ্ট সমাজসেবী মাননীয় মন্ত্রী ডঃ হুমায়ুন কবির L&T(আন্তর্জাতিক সংস্থা) কোম্পানির সঙ্গে কথা বলে, বারোশো (১২০০) ছেলের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছেন। এখানে যোগ্যতার ভিত্তিতে কাজ দেওয়া হবে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ক্লাস অষ্টম থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস। বয়স ১৮ থেকে ৩০ এর মধ্যে।  শনিবার ইন্টারভিউ জন্য প্রত্যেক প্রার্থীকে তার বায়োডাটা সহ বহরমপুর স্কুয়ার ফিল্ড এসডিও বাংলোর সন্নিকটে উপস্থিত থাকার কথা বলা হয়েছিল।
        চাকরি প্রার্থী সাহিন সেখ জানান "ভাবলাম দশ বারো হাজার টাকার বেতন, সরকারি চাকরি যেহুতু নেই, আপাতত প্রেরণা সংস্থায় যায় কিন্তু এতো দেখছি পশ্চিমবঙ্গে লক্ষ লক্ষ যুবক হাজির তাহ‌লে আর কী করে হবে! "
      





Others News

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন,  এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা


পর ফোন করছি কিন্তু আর ফোন আসেনি, সৈয়দিতেই আলীর দাফন, 

  • এখনো বাবার অপেক্ষায় ৬ বছরের সরা

রঙ্গিলা খাতুন, বড়ঞা

সংসার সামলাতে রুটিরুজির টানে কাজে গিয়েছিলেন ভিনদেশে। আর সেখানে গিয়ে ঘটল বিপত্তি। সৌদি আরবে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারালেন বাংলার যুবক। মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির বড়ঞা থানার বদুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাম আলি হোসেন শেখ (৩৪)। 
পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবারে। পরিবারের পক্ষ থেকে মৃত আলী হোসেনের দেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করলেও শকোনো সুরাহা মিলেনি। শেষ পর্যন্ত আজ শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে সৈয়দি আরবেই জানাযার নামাজ পড়ে খবর দেওয়া হয়েছে জানান মৃত আলীর ফুপাইতো ভাই মাহাবুর রহমান। 


 মৃত আলী হোসেনের স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন বলেন গত তিন বছর আগে কাজের সুত্রে সৈয়দি আরবের আল খারিজে গিয়েছিল, ওখানে কপিলের সঙ্গে ইকামা নিয়ে সমস্যা হয়েছিল। বাইরে বাইরে কোনো রকমে কষ্ট করে কাজ করত। ঈদের আগে বাড়ি বাড়ি ফেরার কথা ছিল কিন্তু ইকামার জন্য সঠিক সময়ে বাড়ি ফিরতে পারেনি। সৈয়দি আরবেই ঈদের নামাজ পড়েন। তার স্ত্রী আরও জানান  মঙ্গলবার রাত্রি আটটার সময় আমার সঙ্গে কথা হচ্ছিল আবার পর ফোন করছি বলে রেখে দেওয়ার পাঁচ মিনিট পর সেখান থেকে তার বন্ধুরা জানান মারা গেছে। আমি তো বিশ্বাস করতেই পারছিলাম না। পরে ভিডিও কল করে জানতে পারলাম স্টোক হয়ে মারা গেছে।
   পরিবার সুত্রে জানা গেছে মৃত আলী হোসেনের দেহ আনার জন্য কপিলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে সে দায়িত্ব নেয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেভাবে আশ্বাস না পাওয়া যায়নি তাছাড়া দেহ আনার জন্য লাখ লাখ টাকার প্রসঙ্গ উঠছে। দীন মজুর কোনো রকমে সংসার চলে লাশ নিয়ে আসার খুব চিন্তা পড়েছিল সংসার। শেষ পর্যন্ত শুক্রবার জুম্মার নামাজ পড়ে আরও মৃত তিনজনের সঙ্গে মৃত আলী হোসেনের জানাযার নামাজ পড়ে সৈয়দ আরবেই মাটি দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ফুপাই তো ভাই মাহাবুর রহমান।
  মৃত আলী হোসেন কে শেষ বারের মতো দেখতে না পেয়ে চোখের জলে ভেজালেন স্ত্রী রাজ নেহার খাতুন। এখনো বাবার অপেক্ষায় ছয় বছরের ফুটফুটে মেয়ে সরা খাতুন।